গুমের অভিযোগে দাখিল হওয়া পৃথক তিন মামলার আসামি ২৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন এখনো চাকরিতে ‘কর্মরত’ বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। যেহেতু সেনা সদর দপ্তর এখনও পর্যন্ত আইনটি তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেনি তাই এসব অফিসারদের সার্ভিং (কর্মরত) বলাই যেতে পারে বলে জানিয়েছেন এই প্রসিকিউটর।
গতকাল দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১ এ কয়েকটি মামলার শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর তামীম এসব কথা জানান। ব্রিফিং চলাকালে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘আপনি সেনা কর্মকর্তাদের ‘সার্ভিং’ বলছেন। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলেই তাদের চাকরি থাকার কথা নয়। তাহলে সেনা কর্মকর্তাদের ‘চাকরিচ্যুত’ নাকি ‘চাকরিরত’, কোনটা বলা হবে?’ জবাবে তামীম বলেন, যেটা আইনে বলা আছে, সেটাই আইনের ব্যাখ্যা। এখন সেনা সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নেবেন যে, এই আইনটা কবে তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবে। যতক্ষণ প্রয়োগ না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তো ‘সার্ভিং’ বলাই যেতে পারে।
সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরা ও শুনানির তারিখ পরিবর্তন: শেখ হাসিনার শাসনামলে গুমের অভিযোগে ও নির্যাতনের অভিযোগে করা দু’টি মামলার সেনাদের হাজির ও পরবর্তী শুনানি ছিল ২০শে নভেম্বর। গতকাল এই দু’টি মামলার পরবর্তী তারিখ পরিবর্তনের জন্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। আবেদন অনুমোদন করে আগামী ২৩শে নভেম্বর এই দু’টি মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেকটি মামলার পরবর্তী তারিখ ৫ই নভেম্বরের পরিবর্তে আগামী ২৪শে নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ২ জন এ মামলারও আসামি।

0 মন্তব্যসমূহ