ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হরমুজ প্রণালি ও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলায় কয়েকজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে। বন্দর আব্বাস ও আশপাশের এলাকায়ও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোনের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। একইভাবে বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ও মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলার কথাও জানিয়েছে তেহরান। ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।
ইরানের দাবি, হরমুজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত হওয়ার জবাবেই তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ফার্সের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান, আসলুয়েহ ও আহভাজসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলা হয়েছে।
জুলাইয়ের পর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ‘কঠোর’ আঘাতের হুমকি দিয়েছিলেন।
#vibrantNews365 #ForeignNews #worldnews #Foreign_Affairs #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #Iran #USA #Iran_War

0 মন্তব্যসমূহ