‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ বাগধারাটির উৎপত্তি হিন্দু পৌরাণিক মহাকাব্য রামায়ণ থেকে হয়েছে। রামায়ণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলেন বিভীষণ, যিনি ছিলেন লঙ্কার রাক্ষসরাজ রাবণের ছোট ভাই। নিজের পরিবারের গোপন তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে ফাঁস করে স্বজনদের ধ্বংস ডেকে আনার ঐতিহাসিক ঘটনা থেকেই এই প্রবাদের সৃষ্টি।
বাগধারাটির উৎপত্তির পেছনের কাহিনী:
পক্ষ পরিবর্তন: রাম যখন সীতাকে উদ্ধার করতে লঙ্কা আক্রমণ করেন, তখন বিভীষণ অধর্মের পথ ছেড়ে ধর্মের পক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বড় ভাই রাবণকে সীতাকে ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু রাবণ তা না শুনে বিভীষণকে লাঞ্ছিত করে লঙ্কা থেকে তাড়িয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভীষণ রামের শিবিরে যোগ দেন।
লঙ্কার গোপন রহস্য ফাঁস: লঙ্কার সীমানা, রাবণের প্রাসাদের অন্দরমহল এবং রাক্ষস বাহিনীর যুদ্ধকৌশল ও গোপন ফাঁদগুলো বিভীষণের খুব ভালোভাবেই জানা ছিল। যুদ্ধের সময় তিনি রামের বাহিনীকে লঙ্কার সমস্ত গোপন প্রবেশপথ ও দুর্বলতা বাতলে দেন।
মেঘনাদের মৃত্যু: রাবণের বীর পুত্র মেঘনাদ যখন যুদ্ধজয়ের উদ্দেশ্যে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে গোপন পূজা করছিলেন, তখন বিভীষণই রামের ভাই লক্ষ্মণকে ছদ্মবেশে সেই গোপন যজ্ঞাগারে নিয়ে যান। সেখানে নিরস্ত্র অবস্থায় মেঘনাদ লক্ষ্মণের হাতে নিহত হন।
রাবণের পতন: লঙ্কা যুদ্ধের চূড়ান্ত মুহূর্তে রাবণকে কোনোভাবেই যখন বধ করা যাচ্ছিল না, তখন বিভীষণই রামকে জানান যে রাবণের নাভিতে 'অমৃতভাণ্ড' রয়েছে এবং সেখানে তীর বিদ্ধ করলেই কেবল তার মৃত্যু সম্ভব। এই গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই রাম রাবণকে বধ করেন।
ধর্মের দিক থেকে বিভীষণের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও, নিজ পরিবারের সাপেক্ষে তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হন। তিনি ঘরের মানুষ হয়েও শত্রুকে ঘরের সব গোপন রহস্য জানিয়ে লঙ্কাপুরী ও নিজের বংশের ধ্বংস নিশ্চিত করেছিলেন।
এই পৌরাণিক ঘটনার সূত্র ধরেই পরবর্তীকালে সমাজে নিজের পরিবার, দল বা দেশের ভেতরের কোনো মানুষ যখন গোপনে শত্রুর সাথে হাত মিলিয়ে আপন লোক বা স্বদেশের ক্ষতি করে, তখন তাকে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ বলে আখ্যায়িত করা শুরু হয়।
Please Follow, React, Comment and Share
#VibrantNews365 #কথারউৎপত্তি #বাংলাভাষা #ইতিহাস #InterestingFacts #বিভীষণ #ঘরের_শত্রু_বিভীষণ #Bivishan

0 মন্তব্যসমূহ