বাংলা ভাষায় ‘মগের মুল্লুক’ বাগধারাটি এসেছে মূলত সপ্তদশ শতকে বাংলার বুকে ঘটে যাওয়া আরাকানি দস্যুদের চরম অরাজকতা ও নিষ্ঠুর অত্যাচারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে। বাংলা ব্যাকরণে এই বাগধারাটির অর্থ হলো ‘অরাজক পরিস্থিতি’ বা ‘বিশৃঙ্খল অবস্থা’, যেখানে কোনো আইনকানুনের তোয়াক্কা করা হয় না।
ইতিহাস অনুযায়ী এই কথাটি যেভাবে প্রচলিত হয়েছে, তার মূল কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
‘মগ’ ও ‘মুল্লুক’ শব্দের অর্থ: মায়ানমারের (তৎকালীন বর্মা) আরাকান অঞ্চলের অধিবাসীদের বাংলায় ‘মগ’ বলা হতো। আর ‘মুলুক’ বা ‘মুল্লুক’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো দেশ বা এলাকা। অর্থাৎ, ‘মগের মুল্লুক’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ‘মগদের দেশ’।
পর্তুগিজ ও মগ দস্যুদের তাণ্ডব: ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে বাংলার উপকূলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও বরিশাল এলাকায়, মগ জলদস্যুরা পর্তুগিজ জলদস্যুদের সাথে জোট বেঁধে নিয়মিত আক্রমণ চালাত। তারা নদীপথে এসে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিত, সম্পদ লুট করত এবং সাধারণ মানুষকে বন্দি করে দাস হিসেবে বিক্রি করে দিত।
আইনহীন শাসন ও অত্যাচার: ১৬১৪ থেকে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ শতাব্দীকাল ধরে চট্টগ্রামের বিশাল এলাকা মগদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই সময়ে সেখানে কোনো নিয়মনীতি বা বিচার ব্যবস্থা ছিল না। মগ শাসকেরা সম্পূর্ণ খামখেয়ালিমতো এলাকা চালাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন করত। কোনো আইনকানুন না থাকায় এই অঞ্চলটি তখন আক্ষরিক অর্থেই একটি অরাজক জনপদে পরিণত হয়।
১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে মগ ও পর্তুগিজ দস্যুদের চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করেন। তবে তাদের সেই দীর্ঘকালীন শাসন ও অত্যাচারের স্মৃতি বাঙালি ভোলে নি। পরবর্তীতে বাংলায় কোনো জায়গায় নিয়মকানুনহীন পরিস্থিতি বা কারো খামখেয়ালিপনা দেখলে মানুষ সেটিকে ‘মগের মুল্লুক’ বলে কটাক্ষ করা শুরু করে, যা আজ অব্দি বাগধারা হিসেবে প্রচলিত রয়েছে।
Please Follow, React, Comment and Share
#VibrantNews365 #TrendingNews #কথা’র_উৎপত্তি #Moger_Mulluk #মগের_মুল্লুক

0 মন্তব্যসমূহ