কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাড়ির মালিক ফরিদা ইয়াসমিনকে (৫০) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ১৪ টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাসার পেছনে ফেলে রাখার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ঘটনার মূল বিবরণ
ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড: নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী জাহাজে চাকরি করেন এবং মেয়েরা বিবাহিত হওয়ায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। সেই সুযোগে ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তার ও তার সহযোগীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিন প্যাকেটে ভরে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখে।
লাশ উদ্ধার: শনিবার সকালে নিহতের ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার এসে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় বাড়ির পেছনে পলিথিন মোড়ানো খণ্ডিত দেহাবশেষ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে পলিথিনে মোড়ানো মাংসের টুকরোগুলো উদ্ধার করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে মাথা ও পা পাওয়া যায়নি।
খুনিদের পরিচয়: আটক লাইলী আক্তার দেবিদ্বারের চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে তার স্বামীসহ আরও চারজন (রবিউল, সোহেল ও ইমন) জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
অপরাধীর ভয়ঙ্কর অতীত
তদন্তে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত লাইলী আক্তার একজন পেশাদার অপরাধী। তিনি ২০২১ সালের একটি শিশু (ফাহিমা) হত্যা মামলারও প্রধান আসামি ছিলেন। ওই মামলায় প্রায় চার বছর জেল খাটার পর সম্প্রতি তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন এবং পুনরায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান। পূর্বের হত্যা মামলার বিচার শেষ না হতেই জামিন পাওয়ায় সে পুনরায় অপরাধ করার সাহস পেয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা।
হত্যাকান্ডের শিকার ঐ মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর সোনার গহনার লোভে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ বর্তমানে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে।
Please Follow, React, Comment and Share
#VibrantNews365 #Bangladesh_News #কুমিল্লা #দ্বেবিদার #Murder #Cumilla #Murder_in_Cumilla

0 মন্তব্যসমূহ