অবশেষে ব্যাংকে ‘হেয়ারকাটের’ নামে ‘রাষ্ট্রীয় চাঁন্দা ভাইয়ের’ চাঁন্দা তোলা বন্ধ হতে চলেছে।
একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের (এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক) আমানতের ওপর হেয়ারকাট (অংশবিশেষ কর্তন বা মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত) বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
খবরটি শুনে ভাল লাগলো। আসলে ব্যাপারটি ছিল খুবই স্পর্শকাতর । এটা ছিল একরকম রাষ্ট্রীয় মদদে গ্রাহকের কাছে চাওয়া চাঁদাবাজির সমতূল্য। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিয়ম কানুনের দোহাই দিতে পারে। নিয়মটি হলো শরীয়াভিত্তিক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোন বছরে লোকসান করলে সেই বছরের জন্য ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের কোন লাভ প্রদান করা হবে না। ওই প্রতিষ্ঠান যদি কোন গ্রাহক কে আগেই লাভের টাকা প্রদান করে থাকে সেক্ষেত্রে ওই গ্রাহকের হিসাব থেকে ওই লাভের টাকা কেটে রাখা হবে। এটাকেই বলা হচ্ছে ‘হেয়ার কাট’। এতে করে যে সমস্ত হিসাবধারীরা আগেই লাভের টাকা তুলে ফেলেছেন তারা মূল টাকাটাও ফিরে পাবেন না। কিন্তু এসব ব্যাংকগুলো কেন লোকসানে গেল তাতো দিবালোকের মতো পরিস্কার।যদি এমন হতো ব্যাংকগুলো গ্রাহকের টাকা কোন ভালো জায়গায় বিনিয়োগ করেছিল কিন্তু কোন কারণে সেই বিনিয়োগ লাভজনক হয়নি (যদিও এ যুগে এটা খুবই কম দেখা যায় ) সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এটাতো ছিল এক ধরণের সমুদ্র চুরি।
চট্টগ্রাম ভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গ্রুপসহ আরো কয়েকটি গ্রুপ যখন সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নাকের ডোগার উপর দিয়ে বেনামী ঋণের মাধ্যমে এসমস্ত ব্যাংকের টাকা লূটপাট করছিল এবং ওই টাকা বিদেশে পাচার করছিল তখন তারা কোথায় ছিল বা কি ব্যবস্থা নিয়েছিল তার জন্য সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। যে সমস্ত কুশীলবরা এসব গ্রুপকে টাকা লুটপাটে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মদদ দিয়েছিল তারা কিন্তু এখনও স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এদেরকে চিহ্ণিত করে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, এটা কোন ছেলেখেলা না যে ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা কিছু ব্যক্তি বা গ্রুপ রাষ্ট্রীয় কিছু লোকের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে লুটপাট চালাবে। ফলে ওই ব্যাংক যখন লোকসানে যাবে তখন এই রাষ্ট্রই আবার ‘হেয়ার কাটের’ কথা বলে ওই সমস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলবে এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না বা মেনে নেয়া হবে না। যেখানে এটার জন্য দায় সরকারেরই এবং সরকারের উচিত ওই সমস্ত গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও দুঃখ প্রকাশ করা সেখানে ব্যাংকের লোকসান ওই সমস্ত গ্রাহকের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া সত্যিই হাস্যকর।
যাহোক সরকার দেরিতে হলেও আমানতের ওপর উক্ত হেয়ারকাট (অংশবিশেষ কর্তন বা মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত) বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন দেখার বিষয় তারা এটা কত দ্রুতসময়ে বাস্তবায়ন করে।
Please Follow, React, Comment and Share
#vibrantNews365 #অর্থ-বাণিজ্য #হেয়ারকাট #ব্যাংক #সম্মিলিত_ইসলামী_ব্যাংক #Finance-Business #HairCut #Bank #Sommilito_Islami_Bank

0 মন্তব্যসমূহ