লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন বৃদ্ধি এবং বৈরুতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জুন ২০২৬ তারিখে দুই নেতার মধ্যে একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়।
ফোনালাপের মূল তথ্য ও ট্রাম্পের বক্তব্য:
সরাসরি আক্রমণ: ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, "তুমি বদ্ধ উন্মাদ (You're f*ing crazy)। আমি না থাকলে তোমাকে জেলে পচতে হতো। আমিই তোমাকে বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের জন্য সবাই এখন ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।"
জেলে যাওয়ার ইঙ্গিত: ট্রাম্প মূলত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা দুর্নীতি মামলায় অতীতে নিজের দেওয়া রাজনৈতিক সমর্থনের কথা মনে করিয়ে এই দাবি করেন।
তীব্র অসন্তোষ: ফোনালাপের এক পর্যায়ে ট্রাম্প তীব্র চিৎকার করে জিজ্ঞেস করেন, "তুমি করছটা কী?"
ট্রাম্পের ক্ষোভের প্রধান কারণসমূহ:
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে চলমান অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা নেতানিয়াহুর এই আগ্রাসনের কারণে ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা: বৈরুতের মতো জনবহুল রাজধানীতে বড় ধরনের বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ ইসরায়েলকে বিশ্বজুড়ে সম্পূর্ণ একঘরে করে ফেলবে বলে ট্রাম্প মনে করেন।
বেসামরিক প্রাণহানি: একজন হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে লক্ষ্য করে পুরো একটি বহুতল ভবন ধ্বংস করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার কঠোর বিরোধিতা করেন ট্রাম্প, কারণ এতে ব্যাপক সাধারণ লেবানিজ নাগরিকের মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল।
ফোনালাপের পরবর্তী পরিস্থিতি:
এই তীব্র ধমকের পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) জানান, ফোনালাপটি শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং তার অনুরোধে নেতানিয়াহু বৈরুতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান না চালিয়ে সেনা সরিয়ে নিতে রাজি হয়েছেন। তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে আক্রমণ বন্ধ না হলে তারা দক্ষিণ লেবাননে তাদের পূর্বপরিকল্পিত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।
#vibrantNews365 #foreignNews #worldnews #Foreign_Affairs #ইরান #ইসরাইল #যুক্তরাষ্ট্র #Iran #Israel #USA #Trump #NetaNyahu #you_are_crazy

0 মন্তব্যসমূহ