ইউরোপীয় স্যাটেলাইট কোম্পানি সোয়ার (Soar)-এর সেন্টিনেল-২ (Sentinel-2) স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক ছবি ও বিশ্লেষণে ইসরাইলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট চিত্র সামনে এসেছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ (Ynet)-এর প্রতিবেদনে সামরিক সেন্সরের অনুমতিক্রমে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, যা এতদিন ইসরাইলি বাহিনী গোপন রাখার চেষ্টা করছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
স্যাটেলাইট চিত্রে ইসরাইলের যে সকল সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে তার একটি বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. রামাত দাভিদ বিমান ঘাঁটি (Ramat David Air Base)
ইসরাইলের হাইফার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই কৌশলগত বিমান ঘাঁটির দুটি ভিন্ন স্থানে সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে:
প্রথম স্থান: যুদ্ধবিমানের ব্যবহার্য বিভিন্ন লজিস্টিক সহায়তা যান এবং সামরিক সরঞ্জাম রাখার এলাকাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দ্বিতীয় স্থান: যুদ্ধবিমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহ) এবং সার্ভিসিং স্টেশনটিতে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে।
২. নেভাটিম বিমান ঘাঁটি (Nevatim Air Base)
ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এটি দেশটির সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি এবং সর্বাধুনিক F-35I 'আদির' (Adir) যুদ্ধবিমান বহরের প্রধান কেন্দ্র। ২৫ মার্চের স্যাটেলাইট চিত্রে এই ঘাঁটির ভেতরে থাকা একটি সুসংরক্ষিত ও সুরক্ষিত প্রতিরক্ষা অবস্থানের (Fortified defensive position) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির স্পষ্ট চিত্র ধরা পড়েছে।
৩. মিশার গোয়েন্দা ঘাঁটি (Mishar Intelligence Base)
সাফেদ (Safed) শহরের কাছে অবস্থিত ইসরাইলের অত্যন্ত গোপনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইউনিক ৮২০০ (Unit 8200) সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে এই ঘাঁটির ভূমি এবং ভূপৃষ্ঠের কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তনের (Structural Damage) প্রমাণ মিলেছে।
৪. ক্যাম্প শিমশোন (Camp Shimshon)
লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য ব্যবহৃত এই সেনা ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর ড্রোন ঝাঁকের (Drone swarms) নিখুঁত হামলার পর বেশ কয়েকদিন ধরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও কাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ চলার প্রমাণ স্যাটেলাইট চিত্রে উন্মোচিত হয়েছে।
৫. বেন গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Ben Gurion Airport)
তেল আবিবের কাছে অবস্থিত এই বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কমপক্ষে ৩টি ইসরাইলি বিমান ধ্বংস বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি বিমানে আগুন ধরে আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সেন্সরশিপের কারণে মূল স্যাটেলাইট চিত্রগুলোর রেজোলিউশন কমিয়ে প্রচার করা হয়েছে, যেন ক্ষয়ক্ষতির সূক্ষ্ম বিবরণ সাধারণ মানুষের সামনে না আসে। তবে এই ভিজ্যুয়াল প্রমাণগুলো এটি স্পষ্ট করে যে, আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ছোঁড়া প্রায় ৬৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৬৫টি ড্রোন ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামোর গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
#vibrantNews365 #foreignNews #worldnews #Foreign_Affairs #Soar #Ramat_David_Air_Base #Nevatim_Air_Base #Camp_Shimshon #Camp_Shimshon #Ben_Gurion_Airport

0 মন্তব্যসমূহ