বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণয়ন করেছিল ‘প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন’ (পিসিএ) ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তৈরি এই কাঠামোর উদ্দেশ্য ছিল— দুর্বল ব্যাংকগুলোকে আগেভাগে শনাক্ত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ২০২৫ সালের মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
কিন্তু বাস্তবে এর পথ মোটেও সহজ নয়। গত কয়েক মাসে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং মূলধন ঘাটতির কারণে এই নীতিমালা বাস্তবায়নে বড় বাধা দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পিসিএ ফ্রেমওয়ার্কের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “একটি স্থিতিশীল ও টেকসই ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়তে আমরা বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ও সক্ষমতা আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন জরুরি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা— যা মোট ঋণের ২৪ শতাংশেরও বেশি। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ১৯টি ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি এখন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে— দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্মূল্যায়ন সিদ্ধান্ত বাস্তবতার প্রতিফলন হলেও, দুর্বল ব্যাংকগুলোর প্রতি নীতিগত শিথিলতা নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কারই এখন জরুরি। তারা মনে করছেন, যেসব ব্যাংক টিকে থাকতে পারছে না, তাদের বিষয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

0 মন্তব্যসমূহ