শাপেবর’ বাগধারাটি রামায়ণের একটি পৌরাণিক কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে প্রচলিত। এখানে ‘শাপ’ অর্থ অভিশাপ এবং ‘বর’ অর্থ আশীর্বাদ। কোনো অমঙ্গল বা বিপদ থেকে শেষ পর্যন্ত মঙ্গল বা কল্যাণ লাভ হলে তাকে ‘শাপেবর’ বলা হয়।
কাহিনী অনুযায়ী, অযোধ্যার রাজা দশরথ এক রাতে বনে শিকার করতে গিয়ে শব্দভেদী বাণ ছোড়েন। নদী থেকে জল তোলার শব্দকে তিনি বন্য প্রাণীর শব্দ ভেবে বাণ নিক্ষেপ করেন। কিন্তু সেখানে ছিলেন অন্ধ ঋষি দম্পতির একমাত্র পুত্র সিন্ধু (কোনো কোনো মতে শ্রবণ কুমার), যিনি বাণবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
পুত্রশোকে কাতর ঋষি দশরথকে অভিশাপ দেন—তিনিও একদিন পুত্রশোকে প্রাণ হারাবেন। তখন দশরথ ছিলেন নিঃসন্তান। তাই এই অভিশাপ সত্য হতে হলে তাঁর পুত্রসন্তান হওয়া প্রয়োজন ছিল। ফলে অভিশাপটি পরোক্ষভাবে তাঁর সন্তান লাভের আশ্বাস বা বর হয়ে দাঁড়ায়। পরে দশরথের ঘরে শ্রী রামচন্দ্রসহ চার পুত্রের জন্ম হয়।
এভাবেই যে অভিশাপ শেষ পর্যন্ত মঙ্গলের কারণ হয়ে ওঠে, সেই অর্থে ‘শাপেবর’ বাগধারার প্রচলন ঘটে। অর্থাৎ, যে অভিশাপ শেষ পর্যন্ত মঙ্গলের কারণ হয়ে ওঠে, সেই অর্থে ‘শাপেবর’ কথাটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাগধারা, যা ব্যাপক অর্থে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা হয়।
Please Follow, React, Comment and Share
#VibrantNews365 #TrendingNews #কথা’র_উৎপত্তি #শাপেবর #Shapebor

0 মন্তব্যসমূহ