‘হরিঘোষের গোয়াল’ বাগধারাটি এসেছে আঠারো শতকের এক দয়ালু দেওয়ান হরি ঘোষের নাম এবং তাঁর কলকাতার বাড়ির বিশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে। বাংলা ভাষায় এই বাগধারাটির অর্থ হলো "বহু অপদার্থ বা নিষ্কর্মা ব্যক্তির সমাবেশ" কিংবা "অলস লোকজনের কোলাহলপূর্ণ আড্ডা"।
এই প্রবাদের পেছনে থাকা আসল ইতিহাস ও কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আসল হরি ঘোষ কে ছিলেন?
জন্ম ও পেশা: হরি ঘোষের জন্ম ১৭২০ সালে। তিনি তৎকালীন বিহারের মুঙ্গের দুর্গের দেওয়ান ছিলেন।
দক্ষতা: বাংলা, ইংরেজি এবং ফার্সি ভাষায় তাঁর দারুণ দক্ষতা ছিল। দেওয়ানি করে তিনি প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন।
কলকাতায় বসবাস: চাকরি থেকে অবসর নিয়ে তিনি উত্তর কলকাতার বাগবাজারের কাঁটাপুকুর এলাকায় একটি বড় বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। তাঁর নামানুসারেই আজকের কলকাতার বিখ্যাত 'হরি ঘোষ স্ট্রিট'।
যেভাবে "গোয়াল" কথার উৎপত্তি হলো
হরি ঘোষ অত্যন্ত দয়ালু, ধার্মিক ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর এই বদান্যতার কারণেই বাড়িটি একসময় "গোয়াল"-এ রূপ নেয়:
আশ্রয়হীনদের আশ্রয়: কলকাতার বাইরে থেকে পড়তে আসা গরিব ছাত্র, দূর-দূরান্তের দরিদ্র আত্মীয় এবং চাকরির সন্ধানে আসা মানুষদের তিনি নিজের বাড়িতে বিনামূল্যে থাকার জায়গা দিতেন।
নিষ্কর্মাদের আড্ডা: তাঁর বিশাল বৈঠকখানায় প্রতিদিন শত শত অলস, নিষ্কর্মা ও অকর্মণ্য মানুষ এসে ভিড় জমাতো।
বিনামূল্যে খাওয়া-দাওয়া: এই বিশাল জনসমাবেশ কেবল আড্ডাই দিত না, বরং সবার জন্য হরি ঘোষের বাড়িতে দুই বেলা খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা থাকতো।
গোয়ালের সাথে তুলনা: একটি গোয়ালঘরে যেমন অনেক গবাদি পশু একসাথে গাদাগাদি করে থাকে এবং চিৎকার-চেঁচামেচি বা কোলাহল করে, হরি ঘোষের বাড়ির বৈঠকখানাটির অবস্থাও ঠিক তেমন হয়েছিল। সারাদিন বহু মানুষের হট্টগোল আর অলস আড্ডার কারণে মানুষ ঠাট্টা করে তাঁর বাড়িটিকে বলতো "হরি ঘোষের গোয়াল"।
করুণ পরিণতি
জনশ্রুতি আছে যে, শেষ জীবনে এই পরোপকারী মানুষটি অনেকের দ্বারা প্রতারিত হন এবং তীব্র অর্থকষ্টে ভোগেন। লোকসান সামলাতে তাঁর সম্পত্তি পর্যন্ত বন্ধক পড়ে যায় এবং শেষ বয়সে তিনি সবকিছু হারিয়ে কাশীতে চলে যান। মানুষটি হারিয়ে গেলেও তাঁর সেই বৈঠকখানার কোলাহল আজীবন বাংলা ভাষার এক বিখ্যাত প্রবাদ বা বাগধারা হিসেবে টিকে রয়েছে।
#VibrantNews365 #TrendingNews #কথা’র_উৎপত্তি #হরিঘোষের গোয়াল #Horighosher_Goyal
0 মন্তব্যসমূহ