আমরা সাধারণ বাংলাদেশীরা কি রাজনৈতিক বেশ্যা?
প্রথমেই ক্যাপশন দেখে কেউ কিন্তু মাইন্ড করবেন না। শিরোনামটি বুঝতে হলে আপনাদের অনুরোধ করছি কবি শেখ সাজ্জাদুল ইসলামের লেখা ‘পতিতার লাশ’ কবিতাটি পড়ার জন্য। আপনাদের সুবিধার্থে কবিতাটি এই লেখার নীচে দেওয়া হলো। এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো-ভদ্র সমাজে একজন বেশ্যা মারা গিয়েছে । কিন্তু সমাজপতি ও মোল্ল্যা-হুজুররা ওই বেশ্যার লাশ কোনভাবেই দাফন-কাফন করতে দিবে না। কিন্তু মজার বিষয় হলো বেশ্যা যখন জীবিত ছিল রাতের আঁধারে তখন এসব সমাজপতিরা নিয়মিত তার কাছে যাতায়াত করতো। ওই বেশ্যালয়ই ছিল তাদের কাছে স্বর্গ। আবার যে মোল্ল্যা হুজুররা তার দাফন কাফনে বাধা দিচ্ছে তারা কিন্তু ঐ বেশ্যা জীবিত থাকা অবস্থায় তার কাছ থেকে দান-খয়রাত গ্রহণ করতো। এভাবেই এই কবিতায় ঐ সব ভন্ড সমাজপতি ও মোল্ল্যাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়।
এখন বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কথা বলি। নির্বাচন মৌসুমে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের খুব কাছাকাছি আসার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়। তাদের সোহাগ -আহ্লাদের যেন শেষ নেই। একেকজন ভোটার তাদের কাছে যেন অতি প্রিয়, অতি আদরের, অতি সম্মানের, অতি কদরের। জনগণের হাত দিয়ে তাদের মাথা ছুঁয়ে দেয়, জনগণের পা ছুঁয়ে সালাম করে, বুকে জড়িয়ে ধরে , এ করবে, তা করবে, কত রকমের যে প্রতিশ্রুতি। ঠিক রাতের আঁধারের বেশ্যা যেমন (ঐ কবিতার মতো) অতি কাঙ্খিত ঠিক তেমনি আমরা এই সাধারণ জনগণ। নির্বাচনী বৈতরণি পার হলেই এসব নেতারা এমন ভাব-আচরণ করে যেন জনগণকে তারা চিনেই না, কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কি কি ওয়াদা করেছিল সবকিছু বেমালুম ভুলে যায়। জনগণ যেন তাদের কাছে অচ্ছুত-অস্পৃশ্য বস্তু। এ করতে দিবে না, তা করতে দিবে না। এমনকি জনগণের সহজ-সরল প্রতিবাদ বা সমালোচনাও তারা সহ্য করতে পারে না। এ কেমন ভন্ডামী! এ কেমন শঠতা!
তাই একথা বললে অতুক্তি হবে না যে, আমরা সাধারণ বাংলাদেশীরা রাজনীতিবিদদের কাছে যেন এক রাজনৈতিক বেশ্যা । কবিতার বেশ্যার সাথে সমাজপতিরা রাতের আঁধারে যেমন একরকম আচরণ করতো এবং মৃত্যুর পরে অন্যরকম আচরণ করলো, ঠিক তেমনি রাজনীতিবিদদের কাছে নির্বাচনী মৌসুমে আমরা সাধারণ বাংলাদেশীরা হয়ে যায় বেশ্যার মত অতি কাঙ্খিত আর নির্বাচন পার হলে আমরাই হয়ে যায় তাদের কাছে অস্পৃশ্য ঠিক যেন কবিতার ঐ বেশ্যার মতো।
এই সমস্ত ভন্ডামী বা শঠতা এ দেশের জনগণ আর কতকাল সহ্য করবে?

0 মন্তব্যসমূহ