sponsored

কথা’র উৎপত্তি: 'ঠুঁটো জগন্নাথ' অর্থ কি? এই শব্দের উৎপত্তি কিভাবে হলো?



বাংলা ভাষায় 'ঠুঁটো' শব্দের অর্থ হাত-কাটা বা যার হাতের পাতা বা আঙুল নেই। আর 'জগন্নাথ' হলেন সনাতন ধর্মের একজন পরম দেবতা । ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে যে কাঠের তৈরি মূর্তি রয়েছে, সেখানে দেখা যায় জগন্নাথ দেবের কোনো দৃশ্যমান পূর্ণাঙ্গ হাত বা পা নেই। ঈশ্বরের এই হাতহীন রূপ থেকেই লোকমুখে 'ঠুঁটো জগন্নাথ' কথাটির সৃষ্টি হয়েছে। 

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, পুরীর জগন্নাথ দেবের অসম্পূর্ণ মূর্তির পেছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর কাহিনী। মালবের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন বিষ্ণুর মূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মন্দির নির্মাণ করেন। তখন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা এক বৃদ্ধ কারিগরের ছদ্মবেশে এসে শর্ত দেন যে, তিনি বন্ধ ঘরে মূর্তি তৈরি করবেন এবং কাজ শেষ হওয়ার আগে কেউ দরজা খুলতে পারবে না। কিন্তু ২১ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই ঘরের ভেতর কোনো শব্দ না পেয়ে রাজা ও রানী উদ্বিগ্ন হয়ে দরজা খুলে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকর্মা অদৃশ্য হয়ে যান। ভেতরে দেখা যায়, জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে—তাদের হাত-পা গড়া হয়নি। পরে দৈববাণী অনুযায়ী এই অসম্পূর্ণ রূপেই মূর্তিগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

বর্তমান ব্যবহারঃ বাস্তবে পুরীর মন্দিরে হাত-পাহীন এই জগন্নাথ দেব কোটি ভক্তের কাছে পরম শ্রদ্ধেয় । কিন্তু লৌকিক সমাজে সাধারণ মানুষ এর বাহ্যিক রূপটিকে ভিন্ন অর্থে গ্রহণ করে। হাত না থাকার কারণে যেমন কোনো কাজ বা আত্মরক্ষা করা যায় না, সেই ধারণা থেকে রূপক অর্থে সমাজে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিষ্ক্রিয় বা পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকা মানুষকে 'ঠুঁটো জগন্নাথ' বলে ব্যঙ্গ করার প্রচলন শুরু হয় 

#VibrantNews365 #TrendingNews #কথা’র_উৎপত্তি #ঠুঁটো_জগন্নাথ #বিশ্বকর্মা #পুরীর_জগন্নাথ_দেব


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ