ক্ষেপণাস্ত্র, ফাইটার প্লেন কিংবা বিভিন্ন আকাশযানের গতির প্রসঙ্গে বললে ম্যাক, সুপারসনিক অথবা হাইপারসনিক ইত্যাদি গতির কথা বলা হয়। এসব গতিগুলো আসলে কি? আসুন এসমস্ত গতিসহ আরও কিছু গতির কথা জানি।
ম্যাক (Mach): শব্দের গতি সমুদ্রপৃষ্ঠে এবং আদর্শ তাপমাত্রায় প্রায় ১,২২৫ কিমি/ঘন্টা (৭৬০ মাইল/ঘন্টা), তবে এটি তাপমাত্রা ও উচ্চতার সাথে পরিবর্তিত হয়। ম্যাক হল শব্দের গতির সাপেক্ষে কোনও বস্তুর গতির পরিমাপ, যা ম্যাক সংখ্যা হিসাবে প্রকাশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ম্যাক ১ হল শব্দের গতি, ম্যাক ২ হল শব্দের গতির দ্বিগুণ, এবং ম্যাক 0.৫হল শব্দের গতির অর্ধেক।
সাবসনিক (Subsonic): শব্দের গতির চেয়ে কম গতি (ম্যাক ১-এর কম, বা M < ১)। বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান সাধারণত এই গতিতে চলে। এই গতিতে বাতাসের প্রবাহ প্রায় অসংকোচনীয় (incompressible) হিসাবে বিবেচিত হয়।
ট্রানসনিক (Transonic): শব্দের গতির কাছাকাছি গতি (সাধারণত ম্যাক ০.৮ থেকে ১.২-এর মধ্যে, বা M 0.৮–১.২)। এই গতিসীমায় একটি বস্তুর কিছু অংশের চারপাশে বাতাসের গতি শব্দের চেয়ে কম এবং কিছু অংশে বেশি হতে পারে, যা জটিল বায়ুগতিবিদ্যা তৈরি করে।
সুপারসনিক (Supersonic): শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতি (ম্যাক ১ থেকে ম্যাক ৫-এর মধ্যে, বা M > ১ থেকে M < ৫)। এই গতিতে ভ্রমণকারী বস্তু শক ওয়েভ বা সনিক বুম তৈরি করে। সামরিক জেট বিমান এবং পূর্বে কনকর্ড (Concorde)-এর মতো যাত্রীবাহী বিমান এই গতিতে চলত।
হাইপারসনিক (Hypersonic): শব্দের গতির পাঁচ গুণের চেয়ে বেশি গতি (ম্যাক ৫-এর বেশি, বা M > ৫)। এই গতিতে বাতাসের চরম সংকোচনের কারণে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়, যা পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এবং প্লাজমা ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। এই গতির জন্য বিশেষ তাপ সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। রকেট, মহাকাশ যান এবং কিছু সামরিক ক্ষেপণাস্ত্র এই গতি অর্জন করে।
হাই-হাইপারসনিক (High-hypersonic): খুব উচ্চ হাইপারসনিক গতি (ম্যাক ১০ থেকে ম্যাক ২৫-এর মধ্যে)।
পুনঃপ্রবেশ গতি (Re-entry speeds): বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় মহাকাশযানের গতি (ম্যাক ২৫-এর বেশি)।

0 মন্তব্যসমূহ