সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বড়-সড় ধাক্কা খেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৭৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২২ গুণ কম। সবমিলে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২০২৬) প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমেছে প্রায় ৫২ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষ আগের মতো আর সঞ্চয়পত্র কিনছেন না, বরং অনেকেই পুরনো সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। এর পেছনে ৩টি কারণকে দায়ী করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যায় বেড়ে যাওয়াই সাধারণ মানুষের হাতে সঞ্চয় করার মতো আর অর্থ থাকছে না। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে আমানতের সুদের হারও বেড়েছে। ফলে অনেকেই ব্যাংকে টাকা রাখতে উৎসাহিত হচ্ছেন। অন্য কারণ হলো- সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদের হার বেশ কয়েক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ছিল। ফলে সেখানেও বিনিয়োগ স্থানান্তরিত হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ সরকারের ঋণ হিসেবে গণ্য হয় এবং তা বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় অর্থায়ন করা হয়। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৮ হাজার ৩৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেখানে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৭৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের মাস আগস্টে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল আরও কম, ২৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অথচ গত বছরের আগস্টে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ কম। সবমিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সঞ্চয়পত্রে নিট বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিট বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ১০৯ কোটি টাকা। ফলে এবার নিট বিক্রি কমেছে প্রায় ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেশ বাড়লেও পরবর্তী সময়ে বিক্রির চেয়ে ভাঙানোর প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ফলে এ খাতে সরকারের ঋণ ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।

0 মন্তব্যসমূহ