ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়ার এই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর এই তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এই সামরিক উত্তেজনার মূল কারণ, আইআরজিসির হুঁশিয়ারি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
আইআরজিসি-এর হুঁশিয়ারির মূল বক্তব্য
চূর্ণবিচূর্ণ জবাব: আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো অজুহাতে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য আগ্রাসন বা নতুন কোনো মার্কিন হামলার জবাবে অত্যন্ত কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ: তেহরান দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের একক দায়িত্ব ইরানের হাতেই রয়েছে।
কঠোর ব্যবস্থা: নিয়ম ভঙ্গকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে এখন থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর আইনি বা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কূটনৈতিক প্রক্রিয়া স্থগিত: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন দুই দেশের সমঝোতা স্মারকের (MoU) পরিপন্থি। এর ফলে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা ও সমন্বয় প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতির পটভূমি
মার্কিন বিমান হামলা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের ধারাবাহিক বাধার প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সিরিক বন্দর, কেশম দ্বীপ ও বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এলাকায় বিমান হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের ড্রোন সংরক্ষণাগার, নজরদারি অবকাঠামো এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরানের পাল্টা আঘাত: মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি-এর নৌ ও বিমান বাহিনী কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর পোর্ট সালমানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটির জন্য সতর্কবার্তা: আইআরজিসির নৌবাহিনী প্রধান এক পৃথক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে এবং আগামী দিনগুলোতে তারা ‘নরকযন্ত্রণা’ ভোগ করবে বলে হুমকি দিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুংকার দিয়েছেন যে, যদি পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকে তবে মার্কিন বাহিনী সামরিকভাবে এই কাজের সমাপ্তি টানতে বাধ্য হবে, যার ফলে ইরানের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
#vibrantNews365 #foreignNews #worldnews #Foreign_Affairs #Air_Attack_By_Iran #Iran #USA #IRGC

0 মন্তব্যসমূহ