sponsored

লক্ষ্মীপুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক পরে গণপিটুনিতে নিহত।

 



লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ ( ২৫ জুন, ২০২৬)   বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড (টিনহাটা সংলগ্ন) এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে ঘাতককে  গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে সাধারণ জনগণ।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭—দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯—চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী)। ঔ বাড়ির একমাত্র ছেলে সন্তান জুনায়েদ ইসলাম  (১৯) ঘটনার সময় বাড়ির বাইরে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে সে বেঁচে যায়। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান।  তাঁদের মূল বাড়ি কুমিল্লায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা রায়পুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

গণপিটুনিতে নিহত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (৩০)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং তিনি রায়পুরে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসা করতেন।


বাসায় প্রবেশ ও হামলা: বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে অন্তর মজুমদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ঘরে ঢুকে তিনি পানির পাইপ ঠিক করার কথা বলেন এবং হঠাৎ মা ও তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।

ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে মৃত্যু: হামলার শিকার হয়ে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা ও ছোট মেয়ে শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেজো মেয়ে ইকরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেলে তিনিও মারা যান।

গণপিটুনি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

  • ঘাতকের মৃত্যু: ঘটনার পর অন্তর মজুমদার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত এলাকাবাসী তাঁকে ধরে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। 

  • পুলিশের ওপর হামলা: হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে পুলিশের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হন।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানিয়েছেন, ঘাতক অন্তর মজুমদার আগে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ওই একই ভবনের চিলেকোঠায় ভাড়া থাকতেন এবং প্রায় ৭-৮ মাস আগে বাসাটি ছেড়ে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।


#VibrantNews365 #TrendingNews #Bangladesh_News #National_News #৫_খুন_রায়পুর  #Five_Murders_Laxmipur  #Five_Murders_Raipur


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ