জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত 'আইএসসি ২০২৬' সম্মেলনে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ৫০০টি সুপারকম্পিউটারের সর্বশেষ 'TOP500' তালিকায় মার্কিন আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের নতুন সুপারকম্পিউটার 'লাইনশাইন' (LineShine) । শেনজেনের জাতীয় সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে স্থাপিত এই দানবীয় কম্পিউটারটি ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা সিস্টেম হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মুকুট পুনরুদ্ধার করল । এটি প্রতি সেকেন্ডে রেকর্ড ২.১৯৮ এক্সাফ্লপ্স (সাস্টেইনড ডাবল-প্রিসিশন পারফরম্যান্স) গতিতে গণনা বা হিসাব-নিকাশ করতে সক্ষম।
এই অর্জনের ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েও চীন এই সুপারকম্পিউটার তৈরিতে কোনো মার্কিন চিপ ব্যবহার করেনি। এটি সম্পূর্ণ নিজস্ব নকশায় তৈরি 'লিংকুন' (LingKun) প্ল্যাটফর্ম এবং ৩০০-এর বেশি কোরের 'LX2' প্রসেসরে নির্মিত ।
মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বকে পেছনে ফেলা: লাইনশাইন শীর্ষস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে থাকা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন 'এল ক্যাপিটান' (El Capitan)-কে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিয়েছে। এল ক্যাপিটানের গতি ১.৮০৯ এক্সাফ্লপ্স।
শুধু সিপিইউ-ভিত্তিক রেকর্ড: এটি বিশ্বের প্রথম এক্সাস্কেল (Exascale) সুপারকম্পিউটার, যা কোনো গ্রাফিক্স প্রসেসর বা জিপিইউ (GPU) ত্বরণকারী ছাড়াই শুধুমাত্র সিপিইউ (CPU) ব্যবহার করে ২ এক্সাফ্লপ্সের গণ্ডি পার করেছে ।
এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সীমাবদ্ধতা: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, লাইনশাইন প্রথাগত বৈজ্ঞানিক গণনা (যেমন: জলবায়ু মডেলিং বা ওষুধ আবিষ্কার)-এ সেরা হলেও আধুনিক এআই প্রশিক্ষণের উপযোগী করে তৈরি নয় । এআই সিমুলেশন পরীক্ষায় এটি বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ।
অত্যধিক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নয়: শক্তির দিক থেকে শ্রেষ্ঠ হলেও এটি পরিচালনার জন্য ৪২.২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন, যা যুক্তরাষ্ট্রের 'এল ক্যাপিটান'-এর চেয়ে প্রায় ৪০% বেশি ।
বিশ্বের বর্তমান সেরা ৫টি সুপারকম্পিউটারের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

0 মন্তব্যসমূহ