sponsored

প্রোস্টেট ক্যানসার পরীক্ষায় আশার আলো দেখালেন বিজ্ঞানীরা

 


বিজ্ঞানীরা প্রোস্টেট ক্যানসার সনাক্তকরণে একাধিক যুগান্তকারী পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন। প্রথাগত পিএসএ (PSA) টেস্টের তুলনায় নতুন এই পরীক্ষাগুলো অনেক বেশি নির্ভুলভাবে এবং প্রাথমিক অবস্থায় আক্রমণাত্মক ক্যানসার শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।

মেডিক্যাল সায়েন্সের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি আশার আলো দেখাচ্ছে তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. সুইডেনের স্টকহোম-৩ (Stockholm3) ব্লাড টেস্ট 

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীদের তৈরি স্টকহোম-৩ নামক একটি বিশেষ রক্ত পরীক্ষা প্রচলিত স্ক্রিনিং পদ্ধতির চেয়ে দ্বিগুণ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। 

  • কার্যকারিতা: ১২,০০০-এরও বেশি পুরুষের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ৯০% পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রোস্টেট ক্যানসার সফলভাবে শনাক্ত করতে পারে। যেখানে প্রচলিত পিএসএ টেস্ট মাত্র ৪২% থেকে ৭৪% ক্ষেত্রে সফল হয়। 

  • বৈশিষ্ট্য: এটি শুধুমাত্র রক্তে পিএসএ-এর মাত্রা দেখে না, বরং রক্তের একাধিক প্রোটিন বায়োমার্কার, জিনগত ঝুঁকি (Polygenic Risk Score) এবং রোগীর ক্লিনিকাল ডেটা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে নির্ভুল ফলাফল দেয়।

২. ইউকে-র 'সুপার টেস্ট' ও এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার

যুক্তরাজ্যের গবেষকরা একটি নতুন মাল্টি-ওমিক্স 'সুপার টেস্ট' উদ্ভাবন করেছেন। এটি রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনায় থাকা প্রায় ১০০টিরও বেশি বায়োমার্কার পরীক্ষা করে। 

  • নির্ভুলতা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI অ্যালগরিদমের সাহায্যে এই টেস্টটি ৯৬% থেকে ৯৯% পর্যন্ত সঠিক ফলাফল দিতে সক্ষম।

  • সুবিধা: এটি ক্যানসার প্রাথমিক নাকি শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সেটি কতটা মারাত্মক (Aggressive), তা সহজেই বলে দিতে পারে। ফলে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় বেদনাদায়ক বায়োপসি বা এমআরআই (MRI) স্ক্যান করার ভোগান্তি কমবে। 

৩. জনস হপকিন্সের প্রস্রাবভিত্তিক পরীক্ষা

আমেরিকার জনস হপকিন্স কিমেল ক্যানসার সেন্টারের বিজ্ঞানীরা প্রস্রাবের নমুনায় তিনটি বিশেষ বায়োমার্কার (TTC3, H4C5 এবং EPCAM) বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তকরণের একটি সহজ পদ্ধতি তৈরি করেছেন। এটি সাধারণ প্রোস্টেট বৃদ্ধি (Benign) এবং ক্যানসারের মধ্যে পার্থক্য খুব নিখুঁতভাবে ধরতে পারে। 

কেন এই আবিষ্কারগুলো গুরুত্বপূর্ণ?

  • অকাল মৃত্যু রোধ: প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের অন্যতম প্রধান ক্যানসারজনিত মৃত্যুর কারণ। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এটি প্রায় ১০০% নিরাময়যোগ্য। 

  • অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসার অবসান: প্রচলিত টেস্টের ভুলের কারণে অনেক সময় রোগীকে অপ্রয়োজনীয় থেরাপি দেওয়া হতো, যার ফলে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিত। নতুন পরীক্ষাগুলো এই জটিলতা কমাবে।


#VibrantNews365 #Bangladesh_News #Science_and_Technology #Health #Cancer #Camotherapy #Prostate_Cancer


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ