sponsored

কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার রোমাঞ্চকর বর্ণনা দিলেন ইরানি পাইলটরা

 


ইরানি বিমানবাহিনীর পাইলটরা ২০২৬ সালের মার্চ মাসে কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার ‘ক্যাম্প বুহরিং’ (Camp Buehring) সামরিক ঘাঁটিতে চালানো একটি দুঃসাহসিক বিমান হামলার চাঞ্চল্যকর ও রোমাঞ্চকর বিবরণ প্রকাশ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযানে অংশ নেওয়া একজন কমান্ডার এবং দুই ক্রু সদস্য এই অভিযানের বিভিন্ন কৌশলগত দিক জনসমক্ষে আনেন। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের শোকের প্রতিশোধ হিসেবে এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছিল।

ইরানি পাইলটদের দেওয়া বর্ণনায় হামলার প্রধান প্রধান রোমাঞ্চকর দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

রাডার এড়াতে অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়ন

  • ৫০ ফুট উচ্চতা: শত্রুপক্ষের শক্তিশালী রাডার ফাঁকি দিতে ইরানি পাইলটরা তাদের এফ-৫ (F-5) যুদ্ধবিমান নিয়ে মাত্র ৫০ ফুট উচ্চতায় উড়ে যান।

  • বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়ে উড্ডয়ন: কিছু কিছু এলাকায় তারা এতটাই নিচু ছিলেন যে বৈদ্যুতিক লাইনের (Power Lines) নিচ দিয়ে বিমান চালিয়ে নিয়ে গেছেন। 

কঠোর গোপনীয়তা ও বেতার নীরবতা

  • বেতার যোগাযোগ বন্ধ: পুরো মিশন চলাকালীন পাইলটরা নিজেদের মধ্যে বা কন্ট্রোল রুমের সাথে কোনো প্রকার বেতার বা রেডিও যোগাযোগ করেননি।

  • মাত্র ৫০ মিনিটের মিশন: সম্পূর্ণ অপারেশনটি মাত্র ৫০ মিনিটে শেষ হয় এবং অভিযানের আগে খুব সীমিত সংখ্যক মানুষ এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন। 

শত্রুপক্ষের বিভ্রান্তি ও 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার'

  • আমেরিকান এফ-১৫ বিমান ধ্বংস: ইরানি পাইলটদের দাবি, তাদের এই আকস্মিক ছদ্মবেশী অপারেশনের ফলে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে তারা নিজেদের পক্ষেরই তিনটি মার্কিন এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমানকে ভুলবশত গুলি করে নামায়। 

  • ট্রাম্পের অসন্তোষ: আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন মারাত্মক ভুলের কারণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে ইরানি কমান্ডার উল্লেখ করেন। 

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও ফিরে না আসার মানসিকতা

  • ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ: অভিযানে অংশ নেওয়া অন্য একজন পাইলট জানান, হামলা শেষে ফিরে আসার সময় তিনি মার্কিন ঘাঁটির সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনাগুলো আগুনে পুড়তে এবং ধ্বংস হতে দেখেছেন।

  • শহীদি মানসিকতা: পাইলটরা বলেন, "আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে আমরা আর জীবিত ফিরে আসব না"। দেশের স্বার্থে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা ভিয়েতনামের যুদ্ধকালীন পুরোনো মডেলের এই বিমান নিয়ে আধুনিক মার্কিন ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।


#vibrantNews365 #foreignNews #worldnews #Foreign_Affairs #Air_Attack_By_Iran #Iran #Kuwait #F-5


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ