sponsored

চীনের মরুভূমিতে ‘রহস্যময় সামরিক নগরীতে’ রহস্যময় তৎপরতা, টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র?



                                              

চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের মরুভূমিতে বেইজিং একটি বিশাল ও সুদূরপ্রসারী সামরিক অবকাঠামো বা ‘কমপ্লেক্স’ গড়ে তুলছে, যার মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য প্রথম পারমাণবিক হামলা (First Strike) নস্যাৎ করা এবং বেইজিংয়ের পাল্টা আঘাত (Second Strike) হানার সক্ষমতা সুরক্ষিত রাখা। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে (Reuters Exclusive) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। 

সংস্থাটির পর্যালোচনা করা একাধিক নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, চীন তার দীর্ঘতম পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি বা সাইলোগুলোর (Silos) চারপাশ ঘিরে এক জটিল প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করছে।

এই ‘রহস্যময় সামরিক নগরী’ বা কমপ্লেক্সের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মূল অবকাঠামো ও অষ্টভুজাকার স্থাপনা

  • লঞ্চ প্যাড ও বাঙ্কার: মরুভূমির এই অঞ্চলে ৮০টিরও বেশি নতুন মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চ প্যাড এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছে।

  • অষ্টভুজাকার ইনস্টলেশন (Octagons): জিনজিয়াংয়ের পূর্ব হামি (Hami) পারমাণবিক সাইলোর অদূরে দুটি বিশাল অষ্টভুজাকার সামরিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে বড় সামরিক যান, কর্মীদের আবাসন, সাঁজোয়া বাঙ্কার এবং সুরক্ষিত অস্ত্রাগার দেখা গেছে।

  • যোগাযোগ নেটওয়ার্ক: এই পুরো এলাকা জুড়ে স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র (Electronic Warfare) এবং কমান্ড অপারেশন নোড স্থাপন করা হয়েছে।

২. কেন একে ‘টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র’ বলা হচ্ছে?

  • পাল্টা আঘাতের গ্যারান্টি (Second Strike Capability): নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যদি কখনো চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে প্রথমে আক্রমণ চালায়, তবে যেন চীনের দূরপাল্লার মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এই নেটওয়ার্কের আড়ালে সুরক্ষিত থাকে এবং আমেরিকার যেকোনো শহরে পাল্টা বিধ্বংসী আঘাত হানতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই আয়োজন। 

  • মার্কিন যুদ্ধজাহাজের প্রতিকৃতি (Mock-ups): এর আগে রয়টার্স ও অন্যান্য স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গিয়েছিল, চীন এই তাকলামাকান মরুভূমিতে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী (যেমন: USS Gerald Ford) এবং গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের নিখুঁত রেপ্লিকা বা প্রতিকৃতি তৈরি করে রেখেছে। এগুলো মূলত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নিখুঁতভাবে ধ্বংস করার মহড়া বা টার্গেট প্র্যাকটিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩. পরমাণু অস্ত্রের দ্রুত বিস্তার ও কৌশল

পেন্টাগনের সামরিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের আধুনিকায়ন করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ১,০০০ এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। যদিও চীনের মূল সামরিক নীতি হলো "নো ফার্স্ট ইউজ" (প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করা), তবে এই বিশাল মরুভূমি কমপ্লেক্সটি প্রমাণ করে যে, তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বড় কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে বেইজিং নিজেদের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। 

#vibrantNews365 #foreignNews #worldnews #Foreign_Affairs #চায়না #রহস্যময়_সামরিক_নগরী #ICBM #Octagons #China_Secret_Military_City #Target_USA




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ