ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ‘গোপন সফর’ এবং এর প্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে আমিরাতকে দেওয়া তীব্র হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) থেকে জানানো হয়, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। সফরে তিনি ওমানের সীমান্তবর্তী মরূদ্যান শহর আল-আইনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (MBZ) সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বৈঠক করেন। রয়টার্সের সূত্র মতে, বৈঠকটি গত ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
যুদ্ধের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয় ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। ইসরায়েলের দাবি, এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক বা অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে।এই খবরের ঠিক একদিন আগেই ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি প্রকাশ করেন যে, ইরানি হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েল আমিরাতে তাদের উন্নত ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও তা পরিচালনার জন্য সেনা পাঠিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান: ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও অসত্য’ উল্লেখ করে কড়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কোনো গোপন চুক্তি নয়: বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে, নেতানিয়াহুর কোনো গোপন সফর কিংবা কোনো ইসরায়েলি সামরিক প্রতিনিধিদল গ্রহণের খবর সঠিক নয়।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস: আমিরাত জোর দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পূর্ণ প্রকাশ্য এবং তা ২০২০ সালের দাপ্তরিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (Abraham Accords)-এর কাঠামোর আওতায় পরিচালিত। এর বাইরে অস্বচ্ছ বা অনানুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, নেতানিয়াহুর এই ফাঁসের মাধ্যমে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী তথ্যের সত্যতাই প্রমাণিত হলো।
ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে এমন আঁতাতকে ‘ক্ষমার অযোগ্য এবং একটি বোকামিপূর্ণ জুয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আরাগচি।
তিনি স্পষ্টভাবে আমিরাতসহ আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে বা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের অবশ্যই এর জন্য কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার ধারাবাহিকতায় উপসাগরীয় দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
#vibrantNews365 #foreignNews #worldnews #Foreign_Affairs #আরব_আমিরাত #ইসরাইল #ইরান #UAE #Iran #Israel #Benjamin_Netanyahu #Netanyahu_Visit_to_UAE

0 মন্তব্যসমূহ