sponsored

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড এবং ছোট্ট একটি গল্প

 


রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড  এবং ছোট্ট একটি গল্প 

একটা ছোট্ট গল্প দিয়ে শুরু করা যাক। 

এক যে ছিল প্রতাপশালী  রাজা। ঐ রাজ্যে হঠাৎ করেই ধর্ষণ কান্ড বিশেষকরে শিশু ধর্ষণ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লো। ওই রাজা এসব ব্যাপারে খুবই উদাসীন ছিলেন। সুতরাং অপরাধ বেড়েই চললো।  


 ঐ রাজার ছিল একটাই মেয়ে এবং খুবই আদরের । রাজকুমারী ছিলেন খুবই সুন্দরী এবং বয়স কতই বা হবে, ১৩ বা ১৪। এতটুকু বয়সে রাজকুমারী ছিলেন বেশ এ্য্যডভেঞ্চার প্রিয়। একদিন রাজকুমারি ছদ্মবেশে প্রাসাদ থেকে চুপিসারে একা একা বের হয়ে এলেন, উদ্দেশ্য সাধারণ পোশাকে থেকে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে তাদের সাথে সময় কাটানো। কিন্তু সমস্যা একটা দেখা দিল। রাজকুমারীর ছদ্মবেশে থাকলেও সুন্দর চেহারাটা লুকাতে পারলেন না।


জায়গাটি ছিল কিছুটা নির্জন। তিনি সহসাই শয়তান শ্রেণীর এক মানুষের কুদৃষ্টিতে পড়লেন। শয়তান লোকটি রাজকুমারীর মুখ বেঁধে ফেললো এবং জোর করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার যৌন লালসা চরিতার্থ করলো। বাঁধন একটু আলগা হতেই রাজকুমারী তার আসল পরিচয় প্রকাশ করলেন। কিন্তু ব্যাপারটি হিতে বিপরীত হলো। শয়তান লোকটি নাম প্রকাশ হওয়ার ভয়ে রাজকুমারীকে হত্যা করলো।


সারা রাজ্যে বিদ্যুৎ গতিতে প্রথমে রাজকুমারীর নিখোঁজ হওয়ার খবর ও পরবর্তীতে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাজার সৈন্যবাহিনী দ্রুতই ঐ শয়তান লোকটিকে গ্রেফতার করলো। রাজার নির্দেশে ওই শয়তান ব্যক্তির বাবা-মা সহ জীবিত সকল আত্মীয় স্বজনকে হত্যা করা হলো, তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হলো ও সমস্ত সম্পদ সাধারণ মানুষদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলো ।

অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে রাজার সামনে আনা হলো। আনা মাত্রই রাজা তার তলোয়ার দিয়ে অভিযুক্তের পুরুষাঙ্গ কেটে দিলো এবং এর পরই ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দিলেন। রাজা একসময় ভাবলেন, একজনের জন্যা এতগুলো মানুষ কে মেরে ফেলা ঠিক হয়নি। যা হোক রাজা পরবর্তীতে ঠান্ডা মাথায় ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে নিচের আইন গুলো জারি করলেনঃ

  • ধর্ষকের জন্য দুই দুইটা ফাঁসির বিধান রাখা হলো। প্রথমে ধর্ষকের গোপনাঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুরো দেহকে ঝুলিয়ে রাখতে হবে যতক্ষণ না তার ওই অঙ্গটা ছিঁড়ে যায়। এরপরই ওই ব্যাক্তিকে প্রকাশ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে হবে

  •  ধর্ষকের সমস্ত সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং ভিক্টিম জীবিত থাকলে তার কাছে  অথবা জীবিত না থাকলে তার পরিবারের কাছে ঐ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে হস্তান্তর করা হবে।        

  • যৌন নীপিড়ন এড়াতে এ সঙ্ক্রান্ত সমস্ত সচেতনতামূলক বিষয়গুলো ও শাস্তির বিধানগুলো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্তি বাধ্যতামূলক করা।  

  • ভিক্টিমের সমস্ত দায়িত্ব স্বয়ং রাষ্ট্র বহন করবে।

উপরের ঘটনা থেকে আমরা যে শিক্ষাটি নিলাম তা হলোঃ

  •  রাষ্ট্র বড়সড় ঝাঁকুনি না খেলে কখনই কঠোর কোন আইনের দিকে যায় না।

  • ধর্ষণের মত বিষয়গুলো রামিসাদের মত মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের  ছুঁয়ে গেলেও  তা অচিরেই উচ্চ বিত্তদের মধ্যেও দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়বে যদি আমরা গল্পের ওই রাজার মত উদাসীন হই।

এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

#VibrantNews365 #TrendingNews #Bangladesh_News #National_News #রামিসা_হত্যাকান্ড #রামিসা_ধর্ষণ #ধর্ষণের_শাস্তি #Ramisa_Rape #Ramisa_Murder #Punishment_Of_Rapist


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ