পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনন্য গাঙ্গুলী মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার, ওসিডি ও অ্যাংজাইটিতে ভুগছিল। পরিবারের ধারণা, সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
অনন্য গাঙ্গুলী পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি তিন পরীক্ষাতেই মেধার প্রমাণ দিয়ে বৃত্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু কলেজে উঠে মানসিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়ালেখা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু ফিরেই প্রথম হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায়। পরে তিনি ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
সেই সময় এই অদম্য মেধাবীর জীবনযুদ্ধ ও সফলতার গল্প ফুটে উঠেছিল গণমাধ্যমে। অনন্য গাঙ্গুলী ছিলেন ঝিনাইদহের সরকারি কে এম এইচ কলেজের একজন মেধাবী ছাত্র। ওই সময় ‘ঘ’ ইউনিটের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তার মোট নম্বর ছিল ১০৩ দশমিক ৯৫ (মূল পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৯৫)।
অনন্য গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী ভট্টাচার্য্যের বড় সন্তান। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
অনন্যর বাবা জানান, তার ছেলে মেধাবী হলেও বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের তামিলনাড়ুর ভেলোরের একটি হাসপাতালেও নেওয়া হয় তাকে। ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে নিয়মিত কাউন্সেলিং চলতে থাকে। ফলে, ২০১৬ থেকে ২০২১—প্রায় পাঁচ বছর বন্ধ থাকে অনন্যর প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা।
ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন যে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কেজানা যাবে।
একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার সহপাঠী, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন।
#Vibrant_News365 #National_News #Bangladesh_News #অনন্য_গাঙ্গুলী #অনন্য_গাঙ্গুলীর_আত্মহত্যা #Onanya_Ganguly #Suicide_Of_Onanya_Ganguly #Jhenaidah_News #ঝিনাইদহ_খবর

0 মন্তব্যসমূহ